নষ্ট হচ্ছে সার; দায় কার?

0
349

প্রতিবেদকঃ শেখ হেদায়েতুল্লাহ, খুলনা

বিদেশ থেকে আমদানি করা রাসায়নিক সার খোলা জায়গায় স্তুপ করে রাখা হয়েছে। সারের স্তুপগুলো ট্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে কোনটার ট্রিপল ছিড়ে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে সার। ক্ষমতা হারাচ্ছে রাসায়নিক গুণাগুণ। আর এভাবে মাসের পর মাস পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে এসব সারের গুণগত মান নষ্ট হলেও যেন দেখার কেউ নেই।
চীন, মিশর, সউদী আরব ও তিউনিশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, টিএসপি, সার আমদানি করে আনা হয়। সমুদ্র পথে চট্টগ্রাম হয়ে মোংলা বন্দরে আনা হয়। ষেকান থেকে খালাস করে খুলনার ৭ নং ঘাট এবং শিরোমনি সার গুদামে আনা হয়। কিন্তু গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে সেগুলো স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এ্যাজাক্স জুট মিলসের মধ্যে ও শিরোমনি ও ৭ নম্বর ঘাটের ভৈরব নদীর পশ্চিম পাড়ে রাস্তার ওপর এবং ফাঁকা জায়গায় সারি সাকি সারের বস্তা স্তূপ করা। এতে বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে শুকিয়ে সার শক্ত ও জমাট বেঁধে নষ্ট হচ্ছে।
বিসিআইসি ও বিএডিসি গুদাম সূত্রে জানা যায় খুলনা থেকে কুষ্টিয়া, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট,দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, রাজশাহী, ও বরিশাল বিভাগসহ ৪৫টি স্থানে সার সরবরাহ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভৈরব নদীর তীরবর্তী খুলনার ৭ নম্বর ঘাট ও শিরোমনি সার গোডাউনের বাইরে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে প্রায় মাসের পর মাস ধরে হাজার হাজার মেট্রিক টন রাসায়নিক সার মাটিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানি কাদায় মিশে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সার ডিলার অনেক দিন ধরে সারের বস্তা বাইরে পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টিতে জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে পড়ে। এতে সারের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকরা এ সার নিতে চান না। ডিওপি সার বস্তাতেই গলে যায়। ডিএপি ও টিএসপি সারের বস্তায় শ্রমিকদের হুক বসানোর কারণে বাতাস লেগে চাকা বাঁধে ও গলে যায়।
কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (সার) খুলনার যুগ্ম পরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, আমদাণীকারকরা যে পরিমাণে সার আমদানী করছে গুদামে সে পরিমাণ স্থান নেঈ। স্থান স্বল্পতার কারণে সার বাইরে আমদানীকারকরা ট্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছে। বোরো মৌসুম শুরু হচ্ছে। এখন আমদানীকারকরা সার নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, যেসব সার বাইরে মজুদ রাখা হয়েছে গেগুলো উত্তরবঙ্গের জন্য। খুলনায় বিএডিসির গুদামগুলোতে সারের ধারণ ক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, গুদাম সঙ্কটের কারণে প্রায় ১ লাখ টন ধানর ক্ষমতা সম্পন্ন গুদান নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রূপসা সেতু এলাকায় ৩০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এফএম নিউজ…

আপনার এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গী…

বিজ্ঞাপন ও বার্তা বিভাগঃ 0183 11-06 108