আজ ৯ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দুর্নীতি
দুর্নীতি

দুর্নীতির বাজার জমে উঠেছে; তামাবিল-সিলেট ফোরলেন প্রকল্প

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন -

প্রতিবেদকঃ এইচএম রফিকুল ইসলাম (ভিপি কামাল)

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি

সিলেট শহর থেকে সড়কপথে তামাবিল স্থল শুল্কবন্দরের দূরত্ব ৫৬ কিলোমিটার। দুই লেনের এই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে যে খরচ ধরা হয়েছে, তা সমজাতীয় বেশ কয়েকটি চার লেন সড়কের তুলনায় অনেক বেশি। কাগজপত্র ঘেঁটে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত চার লেনের সড়কটি নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে ৬৪ কোটি টাকা, যা সমজাতীয় চার লেন সড়ক নির্মাণের খরচের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি।

বিজ্ঞাপন, টাচ করুন।

তিন হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ান অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ দিচ্ছে দুই হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। বাকি ৬১৬ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত বিদ্যমান দুই লেনের সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে যে টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, তা করা হয়েছে কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সাধারণত উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে কোনো চার লেন সড়ক প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি খরচ হয় ১৮ থেকে ৩৪ কোটি টাকা।
যদিও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার লেনের একটি মহাসড়কে কিলোমিটারপ্রতি খরচ হওয়ার কথা ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এ ধরনের সড়ক নির্মাণের খরচ যে বেশি, তা এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বুয়েটের গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা সমালোচনার পরও চার লেনের সড়কে কিলোমিটারপ্রতি খরচ কিছুতেই কমছে না। নানা অজুহাতে খরচ বাড়ানো হচ্ছে; যার সব শেষ উদাহরণ সিলেট থেকে তামাবিল মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি। এর আগে ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার খরচ পড়েছে কিলোমিটারপ্রতি ২১ কোটি টাকা। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে কিলোমিটারে ২১ কোটি টাকা। যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর আট লেন প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২২ কোটি টাকা। রংপুর থেকে হাটিকুমরুল চার লেনে খরচ পড়েছে ৫৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট প্রস্তাবিত চার লেনের সড়কটির কিলোমিটারপ্রতি খরচ ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।
চলমান করোনাভাইরাসের প্রভাবে আয় কমে যাওয়ায় সরকার যেখানে গাড়ি কেনা বন্ধসহ বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ অবলম্বন করছে, সেখানে উল্টো সিলেট-তামাবিল সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে গাড়িবিলাস, পরামর্শকের পেছনে হাতি পোষার মতো খরচ এবং বেশি দামের কম্পিউটার কেনার আয়োজন চলছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সরকার নতুন করে সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রাখলেও এই প্রকল্পে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি জিপ কেনার তোড়জোড় চলছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন প্রকল্প পরিচালক, একটি ব্যবহার করবেন অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক, অন্যটি ব্যবহার করবেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক। প্রতিটি জিপ কেনা হবে ৯৮ লাখ টাকা করে।

বিজ্ঞাপন, টাচ করুন।

তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্পের ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের জন্য তিনটি কালার টিভি কেনা হবে; যার প্রতিটির খরচ দেখানো হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা। প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়সহ মোট সাতটি পানি পরিশোধক কেনা হবে, যার প্রতিটির খরচ দেখানো হয়েছে ১৫ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি পিকআপ কেনা হচ্ছে। এ জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ছয়টি কম্পিউটার কেনা হবে; যার প্রতিটিতে খরচ ধরা হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার টাকা। ১৬টি ল্যাপটপ কিনতে প্রতিটিতে খরচ ধরা হয়েছে ৮৮ হাজার টাকা। আর পরামর্শকের পেছনে খরচ হবে ৬৭ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ওপারে ভারতের মেঘালয় থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য তামাবিল বন্দর দিয়ে আনা-নেওয়া করায় সিলেট-তামাবিল সড়কটি ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারত, ভুটান, মিয়ানমার ও চীনের উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী ও মালপত্র দ্রুত পরিবহন করতে সরকার সিলেট-তামাবিল বিদ্যমান দুই লেনের সড়ক চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রকল্পে মোট তিন হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার মধ্যে পরামর্শক ব্যয়, যানবাহন কেনা, সম্মানী, টেলিফোন, জ্বালানিসহ অন্যান্য খাতে ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এই ১০০ কোটি টাকা বাদ দিয়ে তিন হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে চার লেনের সড়ক নির্মাণে।
তথ্য বলছে, সিলেট-তামাবিল দুই লেনের সড়কটি ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক কিংবা কক্সবাজারের মাতারবাড়ীর খাসিয়াখালী পেট্রল পাম্প থেকে ধলঘাট মোড় পর্যন্ত সড়কের মতো নিচু জমিতে নয়। সড়কটি অনেকটা উঁচু। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৯৩৯ মিটারের তিনটি সেতু নির্মিত হবে, যাতে খরচ হবে ৪৮৭ কোটি টাকা। ৫৬ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা।

 

সামাজিক বাস্তবতার উপর নির্মিত কয়েকটি নাটক দেখতে এখানে ক্লিক করুন- https://www.youtube.com/watch?v=UGFSLbHFM1E&list=PLLieECOygnJzmldoORyUpQqqu4A3472ri&index=1

এফএম নিউজ

আপনার এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গী

বিজ্ঞাপন+বার্তা বিভাগঃ01831106108


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন -

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     আরো কিছু সংবাদঃ

ফেসবুক ও টুইটারে এফএম নিউজ

ক্যালেন্ডার

September 2020
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930