পরশুরামে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

0
147
মানচিত্রে পরশুরাম থানা
মানচিত্রে পরশুরাম থানা
অনিয়ম ও অপরাধ বিভাগ
প্রতিবেদকঃ আবদুল মান্নান
ফেনীর পরশুরামের বাউরপাথর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বাউরপাথরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি’তে পড়ালেখা করে আসছে আশেপাশের চার গ্রামের শত শত শিক্ষার্থী। গ্রামগঞ্জের এই সকল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সুন্দর ও মানসম্মত পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণের স্বার্থে সরকার বিভিন্ন অর্থবছরে স্লীপ, প্রাক-প্রাথমিক,ওয়াশ ব্লক মেরামত ও ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ বিভিন্ন খাতে দিচ্ছে নিদিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ। কিন্তু সরকারি বরাদ্দকৃত এইসব অর্থে বিদ্যালয় উন্নয়নমূলক কাজে চলছে নয়-ছয়।
বিজ্ঞাপন, টাচ করুন
বিজ্ঞাপন, টাচ করুন
বরাদ্দকৃত অর্থের আংশিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করে বাকী অর্থ আত্মসাতের চলছে মহা উৎসব। নিদিষ্ট খাতে সরকারি বরাদ্দকৃত এসব অর্থের এক-তৃতীয়াংশ অর্থেরও কাজ হচ্ছে না সঠিকভাবে। বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত,পরিবেশগত উন্নয়ন ও পাঠদান ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ দুর্নীতির এমন নানান অভিযোগ উঠেছে পরশুরামের বাউরপাথর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর বিরুদ্ধে। বাউরপাথর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফ মনসুর আহমেদ। ২০১৭ সালে বাউরপাথর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন অর্থবছরে বিদ্যালয় উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ,পাঠদান ব্যবস্থাপনা অনিয়ম, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে খারাপ ব্যবহার, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের টিসি প্রদানে অভিভাবকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়সহ নানান দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
all Modhuবিজ্ঞাপন, টাচ করুন।
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসীরা বাদী হয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দত্ত এবং পরশুরাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন বরাবর লিখিত অভিযোগও করছেন বলে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দত্ত জানান, এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার’কে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক শরিফ মনসুর আহমেদ ২০১৭ সালে যোগদানের পর থেকে নানান অনিয়ম করে আসছেন। তিনি ২০১৮-১৯ অর্থবছর ও ২০১৯-২০ অর্থবছরের স্লীপ, প্রাক-প্রথমিক, ওয়াশ ব্লক মেরামত, ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ সরকারি বরাদ্দ ৩ লক্ষ টাকার আংশিক কাজ করে বাকী অর্থ আত্মসাৎ এবং ২০২০-২১ চলতি অর্থবছের সরকারি বরাদ্দকৃত ২ লক্ষ টাকার আংশিক কাজ ও স্লীপ বরাদ্দের ৩৫ হাজার টাকার কাজ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করেই পূর্বের রং করা ভবনগুলোতে পুনরায় হালকা রং করে পূর্বের অর্থবছের সামগ্রী বর্তমানের সাথে সমন্বয় করে আংশিক কাজের মাধ্যমে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে এমন অভিযোগ উঠলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখেন সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের সাথে কাজের কোন মিল নেই।
এফএম ইভেন্ট টিমবিজ্ঞাপন, টাচ করুন।
এছাড়াও বিদ্যালয় ভবনগুলোতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন দেখতে না পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামাল হোসেন ক্ষোদ্ধ হয়ে কাজ পরবর্তী ম্যানেজিং কমিটির এক মাসিক সভায় সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে যথাযত ব্যবহার করা হয়েছে এমন কার্যবিবরনীর অনুমোদন পত্রে স্বাক্ষর না করেই তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন। এতে প্রধান শিক্ষক শরীফ মনসুর আহমেদ ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে ভোয়া বিল বাউছার জমা দেন বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক শরীফ মনসুর আহমেদ এক্সিলেন্ট ওয়াল্ড লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি কোম্পানিতেও কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। যেখানে তিনি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে শিক্ষা অফিসে কাজ আছে বলে প্রায় চলে যেতেন বলে অভিযোগ ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি বিদ্যালয় পাঠদান পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিগ্ন হচ্ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক এর অনুপস্থিতিতে অনন্য সহকারী শিক্ষকরাও প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলা করছে। প্রধান শিক্ষক শরীফ মনসুর আহমেদ নিজের শত অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢাকতে অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের সাথে যোগসূত্র রেখেছেন বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
নিজের অনিয়ম আর দূর্নীতি ঢাকতে অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের যার যার ইচ্ছে অনুযায়ী বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সুযোগও দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক শরীফ মনসুর আহমেদ। পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এইসব বিষয়ে অভিযোগ করতে চাইলে তিনি তাদের নানান ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করেন বলে জানান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যরা। স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক শরীফ মনসুর উক্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে পড়ালেখার মান একেবারে খারাপ অবস্থায়। এতটাই খারাপ যে বিগত বছরগুলোতে কোন ছাত্রছাত্রী সন্তোষজনক ফলাফল করে উপজেলা পর্যায়ে কোন ভালো প্রতিষ্ঠানের পড়ালেখা করার সুযোগ পায়নি। সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের কারণে বিদ্যালয় ভবন ও শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা।
এনিয়ে পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন জানান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাথে কোনরূপ আলোচনা ছাড়া সরকারি বরাদ্দের টাকা দিয়ে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করা অবশ্যই অযৌক্তিক। এছাড়া সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের আংশিক কাজ করে বাকী অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া একজন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় চলাকালীন তার উপর আর্পিত দায়িত্ব এড়িয়ে সে অন্য কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়াতে পারে না। এটা অবশ্যই বেআইনি। এমন অভিযোগ যদি সত্য প্রমানিত হয় অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here