সড়কে ঘুরমুখো মানুষের ঢল, ভাড়া ৫ গুণ বেশি

ঘুরমুখো মানুষের ঢল
ঘুরমুখো মানুষের ঢল

জাতীয় বিভাগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে করোনাভাইরাসকে (কোভিড-১৯) উপেক্ষা করে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ বিড়ম্বনার মধ্যে বাড়ি ফিরছে। লকডাউনের কারণে দূরপাল্লার আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।all Modhuবিজ্ঞাপন, টাচ করুন।

খবর নিয়ে জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, মৌচাক ও শিমরাইল মোড় থেকে ৩ গুণ থেকে পাঁচগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের। ভোর থেকেই এ দুটি মহাসড়কে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড় কেবল বেড়েছেই। মানুষজন করোনাভাইরাসকে উপেক্ষা করেই তারা বাড়ি ফিরছেন। যাত্রীরা গাদাগাদি করে নির্ধারিত গন্তব্যে যাচ্ছেন। এখানে মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি। নেই সামাজিক কিংবা শারীরিক দূরত্ব। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, মৌচাক ও শিমড়াইল মোড় এলাকায় সরেজমিন গিয়ে একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামের বাড়িতে যেতে ইচ্ছুক শত শত মানুষকে ভোর থেকে ভিড় করতে দেখা গেছে এ স্ট্যান্ডগুলোতে।

বিজ্ঞাপন, টাচ করুন
বিজ্ঞাপন, টাচ করুন

শিমরাইল মোড়ের বাস কাউন্টারের মাধ্যমে টিকিট কেটে প্রতি বছর ঈদ বা বিভিন্ন ছুটিতে বাড়ি ফিরে যেতেন যাত্রীরা। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেই সুযোগ না হওয়ায় যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার জন্য গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, বাবা-মা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ঈদ পালন করতে কুমিল্লায় যাচ্ছি। কিন্তু দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় আড়াই ঘণ্টা শিমরাইল মোড় এলাকায় পরিবারের সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বাসে দাউদকান্দি যেতে ৫০-৬০ টাকা ভাড়া লাগতো। এখন মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে চালকরা। তার পার্শ্ববর্তী এলাকা জালকুড়িতে বসবাস করা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন জসীমউদ্দিন। অগ্রিম ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ফেনী যাবেন। দেড় ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি জানান, আমার পরিবারের সবাই গ্রামে থাকেন। আমি সবসময় গ্রামেই ঈদ পালন করি। এবারও যাব কিন্তু প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চালকরা প্রচুর ভাড়া চায়।

————————–

আপনার প্রিয় সব তারকাদের সাক্ষাৎকার দেখতে নিচের পোস্টারে টাচ করুন- 

 পোস্টারে ক্লিক করুন
পোস্টারে ক্লিক করুন

প্রাইভেটকার চালক আকবর হোসেন জানান, ঈদে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকা অবস্থায়ও সড়কে যাত্রীর চাপ রয়েছে। আমরা লকডাউনে তেমন আয় করতে পারিনি। ঈদে কোনোরকমে গাড়ি চালাচ্ছি। তবে ভাড়া আহামরি বেশি নিচ্ছি না আমরা। এছাড়াও মহাসড়কে চাঁদা দিয়ে দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে আমাদের। কুমিল্লার যাত্রী ফয়সাল আহমেদ জানান, কুমিল্লায় মোটরসাইকেলে প্রতিজন যাত্রীকে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালক ইসমাইল হোসেন জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত একজনের ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। যদি ২ জন হয় তবে মোট ৬০০ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা জানান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনগুলোতে ভাড়ার পরিমাণ ঠিক নেই। যাত্রীদের কাছ থেকে বহুগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গণপরিবহন বন্ধ হওয়ার পর থেকে এভাবেই যাত্রীদের ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এমনকি ব্যাটারিচালিত রিকশাও চলাচল করতে দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় সার্জেন্ট কুশল কুমার সাহার সঙ্গে। তিনি জানান, এভাবে যাত্রী না নিতে আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। তদুপরি সকাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ১০টি পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি।

বিজ্ঞাপন, টাচ করুন।
বিজ্ঞাপন, টাচ করুন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্রাফিক বিভাগের টিআই (প্রশাসন) কামরুল ইসলাম বেগ জানান, আমরা আমাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছি। সোমবার ৬১টি পরিবহনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর ৩টা) ৩০টি মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান এই প্রতিবেদককে। পাশাপাশি ১৫টি পরিবহনে রেকারিং করা হয়েছে।

————————–

সামাজিক বাস্তবতার উপর নির্মিত নাটক-শর্ট ফিল্ম দেখতে নিচের ছবিটিতে টাচ করুন করুন-

উপরের ছবিটিতে ক্লিক করুন।
উপরের ছবিটিতে ক্লিক করুন।

এফএম নিউজ

আপনার এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গী

বিজ্ঞাপন+বার্তা বিভাগঃ01831106108 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here