নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত এতিম শিশুটির পক্ষে কে মামলা করবে?

0
119
ক্ষতবিক্ষত শিশু আমেনা
ক্ষতবিক্ষত শিশু আমেনা

ঢাকায় মায়ের বান্ধবীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়েছিল ১১ বছরের শিশু আমেনা খাতুন। মহাখালীর সাততলা সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দা শ্যামলী শিশুটির মায়ের ভালোবাসার ‘প্রতিদান’ দিয়েছেন। স্বামী-শাশুড়ি মিলে শ্যামলী মেয়েটিকে এমনভাবে নির্যাতন করেছেন, যার বর্ণনা শুনলে যে কারও গা শিউরে উঠবে।

শিশু আমেনার শরীরের কোথায় নেই গরম খুন্তির চিহ্ন! খুন্তির ছ্যাঁকায় ক্ষত হওয়া সারা শরীর শুকিয়ে কালশিটে পড়ে গেছে। সাঁড়াশি দিয়ে চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলায় মাথায়ও ক্ষতচিহ্ন। আমেনা এখন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞাপন, টাচ করুন
বিজ্ঞাপন, টাচ করুন

যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নূর ইসলাম ও আকলিমা খাতুনের মেয়ে আমেনা। ২ বছর বয়সেই সে বাবাকে হারায়। তার বয়স যখন ৭, তখন নানি জোহরা খাতুন তার মা আকলিমাকে আবার বিয়ে দেন। ভিক্ষা করে নানি জোহরাই লালন-পালন করতেন শিশু আমেনাকে।

আমেনা খাতুনের মা আকলিমা বলেন, গত বছর করোনার আগে তার ছোটবেলার বান্ধবী শ্যামলী বৈরাগী তাকে অনুরোধ করেন আমেনাকে তার সঙ্গে দেওয়ার জন্য। শ্যামলীর দু’টি বাচ্চা। ঢাকার বাসায় থেকে আমেনা তাদের দেখাশোনা করবে। আমেনার থাকা-খাওয়া, মানুষ করার দায়িত্ব তার। সরল বিশ্বাসে বান্ধবীর হাতে মেয়েকে তুলে দিয়েছিলাম। আজ এই তার পরিণতি! এটুকু বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন আকলিমা।

অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বাদল সিকদার ও শ্যামলী বৈরাগীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা সাড়া দেননি।

বিজ্ঞাপন, টাচ করুন।
বিজ্ঞাপন, টাচ করুন।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা আমেনার কাছ থেকে জানা যায় তার ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা। আমেনা বলে, ‘এক বছর আগে শ্যামলী আন্টি তাকে ঢাকার মহাখালীতে সাততলা সরকারি কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। সেখানে শ্যামলী আন্টি, তার স্বামী বাদল সিকদার ও আন্টির শাশুড়ি লিলি থাকেন। আন্টির শাশুড়ি সরকারি হাসপাতালের নার্স। ওই বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর দুই মাস ভালোই ছিলাম। এর পর থেকেই শুরু হয় নির্যাতন। বাড়ির কাজের একটু এদিক-ওদিক হলেই বেধড়ক মারপিট করতেন শ্যামলী আন্টি ও তার স্বামী।’

আমেনা আরও জানায়, তাকে দিয়ে বাড়ির সব কাজ করানো হতো। রুটির পরিমাণ কম হলে মারপিট; হাত থেকে পিরিচ পড়ে গেল কেন- গরম খুন্তির ছ্যাঁকা। এভাবে নানা সময় কাজে একটু এদিক-সেদিক হলেই মুচড়িয়ে হাত ভেঙে দেওয়া, প্লায়ার্স দিয়ে মাথার চুল টেনে উঠিয়ে দেওয়া, গলা এবং মাথায় আঘাত করা, রুটি বানানো বেলন দিয়ে দুই পায়ে বাড়ি। পায়ের ওপরে দাঁড়িয়ে যন্ত্রণা দেওয়া, বুকের ওপর দাঁড়িয়ে লাফালাফি করা- হেন অত্যাচার নেই যা তারা করেনি। কান্না করলে মুখে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হতো।

all Modhuবিজ্ঞাপন, টাচ করুন।

আমেনার নানি জোহরা খাতুন বলেন, এক মাস আগে নাতনিকে দেখতে ঢাকায় যাই। কিন্তু বাদলের বাসায় না নিয়ে তার কাকা আমাকে মিরপুরের বাসায় নিয়ে গেছে। আমাকে বলা হয়েছে, শ্যামলী বাদল বরিশালে বেড়াতে গেছে। আমেনাকে সঙ্গে নিয়ে গেছে। পরে এক সপ্তাহ আগে আমেনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আকলিমাকে ফোন করে শ্যামলী। এর পর গত ২৩ মে আমি আবার ঢাকায় গিয়ে আমেনাকে নিয়ে আসি। ২৫ মে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যশোরে ফেরার পর আমেনাকে হাসপাতালে ভর্তিতে সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বজন সংঘ’র সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার দাস। তিনি বলেন, জোহরা খাতুন প্রথমে আমেনাকে নিয়ে গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। এমন নির্যাতনের খবরে আমরা শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করি। মামলা করার জন্য যশোর কোতোয়ালি থানায়ও যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু থানা থেকে ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধন কুমার দাস বলেন, আমেনার মা ও নানি দরিদ্র মানুষ। তাদের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে মামলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা জরুরি।

সূত্রঃ সমকাল

————————–

সামাজিক বাস্তবতার উপর নির্মিত নাটক-শর্ট ফিল্ম দেখতে নিচের ছবিটিতে টাচ করুন করুন-

উপরের ছবিটিতে ক্লিক করুন।
উপরের ছবিটিতে ক্লিক করুন।

এফএম নিউজ

আপনার এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গী

বিজ্ঞাপন+বার্তা বিভাগঃ01831106108 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here